এহ‌ইয়াউস সুনান বই রিভিউ

খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর লেখা বা আলোচনা বরাবরই ভাল লাগার মত বিষয়। কারণ তার সমালোচনা গুলা কাজের বিরুদ্ধে ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নয়। অর্থাৎ পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়।

বিদাআত আমাদের দেশের এখন একটি বহু আলোচিত বিষয় মুসলিমদের মাঝে। আর বিদাআত সম্পর্কে জানতে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর এই বইটি অবশই পড়া উচিৎ। তিনি হানাফি ফিকহ্ এর একজন বড়ো আলেম এবং যেহেতু আমাদের দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ হানাফি মাযহাব অনুসরণ করে তাই এই বইটি অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ  হবে।

তিনি খুব সুন্দর করে দলিলের ভিত্তিতে বিদাতের আলোচনা করেছেন, এর উৎপত্তি কিভাবে তার ব্যাখা দিয়েছেন। আমরা মনে করি শুধু ধর্মে নতুন কিছু সংযোজন করাই বিদাআত। কিন্তু সুন্নাত বর্জন করাও একটা বিদাআত। কিছু পয়েন্ট নিচে তুলে ধরলেম:

১. বিদাআত হতে পারে এমন কাজ যে আমরা সুন্নাত অনুযায়ী করি না যেমন কোনো কাজ আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) জীবনে এক দুই বার কোনো নির্দিষ্ট কারণে করেছেন কিন্তু আমরা তা নিয়মিত করা শুরু করে দিলাম। এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরন হতে পারে নামাযের পরে হাত তুলে মুনাজাত। আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) জীবনে ২/৪ বার এর বেশি হাত তুলে মুনাজাত করেন নি। এমনকি সাহাবিরাও নামাযের পরে একা অথবা সমবেত হয়েও করেননি। কিন্তু এখন অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়াইছে যে হাত তুলে মুনাজাত না করলে মনে হয় নামায শেষ হয় নি। অথচ মুনাজাত নামাযের অংশ নয়। হাদিসে বলা আছে দোআ কবুলের সবচেয়ে ভাল সময় নামাযের রুকুতে, সেজদায় আর শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দারুদ পাঠের পর। কিন্তু আমরা এত দ্রুত নামায শেষ করতে চায় যে এই কাজটি করা হয় না। আবার নামাযের পর ও অনেক মস্নুন দোআ আছে যা আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) আমাদের শিখিয়েছেন অথচ তা আমারা শিখি না আর পড়িও না।

২. আবার বিদাআত এমন হতে পারে যে কাজ আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) মাঝে মাঝে অথবা প্রাই সময় করেছেন কিন্তু আমরা একেবারেই করি না। যেমন তিনি প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন অথচ আমরা অনেকে রামজান ছাড়া সারা বছর পড়ি না।

৩. বিদাআত আবার এমন হতে পারে যে কাজ করাটা সওয়াবের কিন্তু আমরা তা সুন্নাত অনুযায়ীই করি না। যেমন জিকির আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) একা একা নিশব্দে করেছেন। সাহাবিরাও একিভাবে করেছেন। এখন আমরা যদি মনে করি একসাথে বসে জোরে জোরে করলে আন্তরিকতা বাড়বে তাহলে এটি বিদাআত হবে। যে কাজ যেভাবে আমাদের নবী(صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم) করেছেন শে কাজ আমাদের করা উচিৎ।

বর্তমান সময়ে সহমর্মিতা অনেক কমে গেছে। কারো কিছু জিনিস আমার পছন্দ না হলে আমরা তাকে গালি দেয়া শুরু করি। বিভিন্ন নামে ডাকি। কিন্তু তার সাথে বসে আলোচনা কেউ করতে চাঁই না। ধর্মের যতটুকু আমার ভাল লাগে মানি আর যতটুকু ভাল লাগে না তা এড়ায় যাই।

আবার অনেকের প্রশ্ন এত জন এত মত দেন তাহলে কোন্‌টা মানব। এই ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সবার পক্ষে ধর্মের সব বিষয়ে পারদর্শি হওয়া সম্ভব না। সেই ক্ষেত্রে আমাদের এমন কাউকে অনুসরন করা উচিৎ যার আকিদা সঠিক। এই ক্ষেত্রে তিনি মাযহাব অনুসরন এর কথা বলেছেন। তবে যদি আমি হাদিসের আলোকে জানতে পারি যে কোনো কাজ আরও ভালভাবে সুন্নাত অনুযায়ীই করা যাবে যেটা মাযহাব হইতো একটু অন্যভাবে বলা আছে তাহলে আমাদের উচিৎ হবে সুন্নাত এর কাছা কাছি তা অনুসরন করা।

আর এখন আমাদের কাছে রিসোর্সের অভাব নেই। সহিহ হাদিস গ্রন্থগুলো আছে, তাফসীর আছে। আমরা চাইলে খুব সহজে যাচাই করে নিতে পারি।

Please put your valuable comment here (Leave a Reply)

%d bloggers like this: