ফেরা বই রিভিউ

একটানা পড়লাম অনেকদিন পর একটা বই। আগে অনেক নই পড়তাম। বিয়ের পর, বাচ্চারা আসার পর পড়ার অভ্যাস অনেকটাই চলে গিয়েছিল। এই বইটা পড়ার সময় একজনের কথা খুব মনে পড়ছিল। ভি.এন.সি তে পড়ার সময় অল্পসময়ের পরিচয়। ঘনিষ্ঠতাও তেমন ছিল না। মেয়েটা পারিবারিকভাবে সনাতন ধর্মানুসারী ছিল। কিন্তু ওর বাবা ওদের ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না। পালনও নাকি করতেননা। কোন ধর্মই পালন করতেননা তবে সব ধর্ম সর্ম্পকে পড়াশোনা করতেন। ও বড় হওয়ার পর গীতা, বাইবেল ও কুরআন পড়তে দেন। বলেন যে ধর্মগ্রন্থটি তার সত্য মনে হবে সেই ধর্মই পালন করতে।

মেয়েটি নিরপেক্ষভাবে পড়ে কুরআন মজিদের প্রতিই বেশী আকৃষ্ট হয়। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে ইসলামে আসতে পারেনা পারিবারিকভাবে। মেয়েটি এদেশের একজন প্রথিতযশা লেখকদ্বারা প্রভাবিত ছিল অন্যসব হাজার হাজার কিশোর কিশোরির মত। ডিপ্রেশনে আত্মহত্যা করার কথা ভেবে লেখককে চিঠি লিখে। লেখক তাকে অনুপ্রেরণা দেন, এই ভয়ানক কাজ থেকে বিরত করেন। কিন্তু তার মনের আসল দ্বন্দ মেটাতে পারেন না। কারন লেখক ইসলামের পথ দেখাতে পারেন না।

আমরা একব্যাচে কেমিস্ট্রি পড়তাম যে স্যারের কাছে, আল্লাহ্‌ রহমতে তিনি খুব ভাল মানুষ ও মুসলিম ছিলেন। মেয়েটি পড়ার বাইরে ধর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন করলে তিনি ধৈর্য্যসহকারে উত্তর দিতেন। তখন এই ব্যাপারে আমি এত সচেতন ছিলাম না। মেয়েটির কথা শুনে মনে হত আসলেই আমাদের ধর্ম সত্য তাই ও আকৃষ্ট হয়েছে। আমি মুসলমান এটা ভেবে গর্বিত হতাম এইটুকুই। শেষ পর্যন্ত যা মনে পড়ে ও স্যারকে বলতো ও একজন মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করতে চায়, যে ইসলাম জানে ও মানে। এভাবেই ও ইসলামের পথে আসতে চাইত। স্যারের কাছে বারবার জানতে চাইত, সব জেনে কোন মুসলিম ছেলে কি তাকে বিয়ে করবে কিনা! স্যার তাকে ভরসা দিতেন, বলতেন যদি সে মন থেকে চায় তাহলে আল্লাহ্‌ নিশ্চয় কবুল করবেন। জানিনা শেষ পর্যন্ত ও আল্লাহ্‌ পথে আসতে পেরেছিলো কিনা। ওর ইরাদা মজবুত ছিল কিনা। এই বই পড়তে পড়তে আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছিল। আল্লাহ লেখিকা দুইবোনকে উত্তম প্রতিদান দিন।

 

Reviewer: Fahima Tabassum

Please put your valuable comment here (Leave a Reply)

%d bloggers like this: