প্রদীপ্ত কুটির বই রিভিউ

বইঃ প্রদীপ্ত কুটির
লেখকঃ আরিফুল ইসলাম
প্রকাশনীঃ সমর্পন প্রকাশন

কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে ডা. আকাশের আত্মহত্যা, বুয়েট শিক্ষক কতৃক স্বীয় পত্নীর প্রতি চওড়া হওয়া.. বরিশালে ২দিন আগে প্রায় ২ ডজন পরিত্যাক্ত মানব ভ্রুনের উদ্ধার! এসব নিয়ে যরপরানই আমরা কেউ হতাশ, কেউ রিল্যাক্সড!

নারী জাগরনে ভূমিকা রাখার কারনে আমাদের দেশের এক সুনয়না কন্যা ‘জেবা তাহিয়া’ ব্রিটিশ রানী থেকে মেডেল পেয়েছিল। আয়মান সাদিক ও শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে ব্রিটিশ মেডেল পেয়েছিল।

তখন আমাদের হাজারো তরুণ তরুনী ফেইসবুকের টাইমলাইন ঐ দুজনকে উৎসর্গ করেছিল। তাদের সবার টাইমলাইনে একটা কমন ডায়ালগ ছিল ‘আয়মান সাদিক ও জেবা তাহিয়া, এদের কোন গার্ল ফ্রেন্ড-বয় ফ্রেন্ড নেই। তাই তারা সফল।’

-ভার্সিটি উঠার পর থেকেই মনের মধ্যে একটা ইউরেকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। কত পোলাপান ভার্সিটির বড় আপুদের সাথে ছবি তোলে, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যায়, ফিস ফিস করে রাত কাটিয়ে দেয়। সকালে উঠে যদি জিজ্ঞেস করি ‘দোস্ত কেমনে সম্ভব? তখন উত্তরে ভেসে আসে ‘আরে বেটা! একটা নাকি! ৪/৫ টা মন কনভিন্স করতে হয়।’ তখন নিজেকে এতিম এতিম লাগে!

– মাহির আর লাফিজা হচ্ছে বর্তমান জেনারেশনের বিষ ফোঁড়া। স্রোতের বিপরীতে চলা এক দম্পতী। এরা দুজন প্রদীপ্ত কুটিরের ২টি প্রদীপ।

-আামাদের জেনারেশনের মেয়েরা যখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে স্বামীর সাথে নিজেকে ‘হেড টু হেড’ ভাবে, তখন লাফিজা তাদেরকে বলতে চায় যে নারী কোমলপ্রাণ। স্বামীকে চ্যালেঞ্জ করতে নারীর সৃষ্টি হয়নি। বরং স্বামীর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে নারীর সহযোগিতাই মূখ্য!

-বইটা সুন্নাহভিত্তিক গুরুত্ব দিয়ে সাজানো। তবে সুন্নাহর গুরুত্ব বুঝাতে এখানে একটি দম্পতীকে ব্যবহার করা হয়েছে।

-বইটি যদিও দাম্পত্য জীবন কেন্দ্রিক, কিন্তু এখান থেকে সুন্নাহর শিক্ষা নেওয়াটা উচিত। সুন্নাহকে গল্পের চলে বুঝাতে দাম্পত্য জীবন কেন্দ্রিক সাজানো হয়েছে।

-বিবাহিত ভাইয়াপুদের জন্য বইটা একটি মধুর খুনসুটি হতে পারে। লাফিজা কি সুন্দর করে মাহিরকে সাপোর্ট দিচ্ছে, শ্রদ্ধার সাথে স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছে… এটা আসলেই মুসলিম দম্পতীগুলোর জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে। এটা সত্য যে সুন্নাহর শিক্ষা ব্যাতীত জীবন সুন্দর নয়। আপনি কি চাইবেন? আপনার সময়গুলো হতাশায় কাটুক?

-ব্যাচেলর ভাইয়াপুরা অগ্রীম প্রিপারেশনের জন্য বইয়ের অক্ষরগুলো চর্চা করবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো গল্পের চলে কতগুলো সুন্নাহর সাথে পরিচিত হতে পারবেন।

-আগেই বলেছিলাম বই থেকে সুন্নাহর শিক্ষা নেওয়াটা মূখ্য বিষয়। লেখক পুরো বইটাকে স্টেপ বাই স্টেপ গল্পাকারে জীবনের একটি পার্টে সাজিয়েছেন। প্রতিটি গল্প যেন সত্যি সত্যি জীবনের সাথে কথা বলে।

-হাদীসের উক্তি দিয়ে গল্প সাজানোর কারনে গল্প গুলোতে আলাদা একটা টুইস্ট ছিল। সেই সাথে হাদীস থেকে যে রেফারেন্স টানা হয়েছে, সে হাদীসগুলোকে নীচে কোটেশন বক্সে পুরো বর্ণনা করা হয়েছে। এটা চমৎকার একটা কাজ ছিল। তবে কয়েকটি জায়গায় শুধু হাদীসের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।

-বাসর রাতে বিড়াল মারার কাহিনি তো পুরাই অন্যতম পৌরানিক পার্ট। মনে হয় অনেকে জানেনা এই বিড়াল মারার কাহিনির দিয়ে অবাধ্য স্ত্রীকে বাধ্য করা যায়।

-বার্থডে সেলিব্রেশন একটা ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ধার্মিক সন্তানগুলোও এগুলোতে অভ্যস্ত। আগে জানতাম বিড়িখোরদের সম্পর্কের প্রতীক একটা সিগারেট। এখন দেখা যায় ‘বার্থডে সেলিব্রেশন’ বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এখনকার পোলাপান কুরআন-হাদীসকে পাত্তা দেয় কম। সে হিসেবে ‘জন্মদিনের মর্মবীন’ গল্পটা একটা এ্যামাইজিং পার্ট।

লেখকের প্রতিঃ
-প্রতিটি গল্পের সাথে একটা সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে। পুরো বইটাকে জীবনের একটা অংশ মনে হয়েছে। সে হিসেবে বইয়ের মধ্যে আরেকটু সাহিত্যের রস দিয়ে প্রত্যেক গল্পের শিরোনাম বাদ দিয়ে উপন্যাস আকারে দিলে সেই হিট হতো।

-এখানেই যেন সুন্নাহ চর্চার ইতি না ঘটে। সামনে আরো চাই। আরো বড় পরিসরে। আলাদা টুইস্টে!

সিলেটের ‘সাতকরা আর গোস্ত’ রান্নাটি খাওয়ার জন্য কিন্তু মুখিয়ে আছি। কেউ কি আছেন একবার দাওয়াত দিতেন!…

‘সভ্যতার দ্বন্দ্ব ছিল, শেষ হয়েছে, আবার শুরু হয়েছে। এ দ্বন্দ্ব চলতে থাকবে। কিন্তু ইসলামী সভ্যতা সেই প্রাচীন কাল থেকে অপরিবর্তনীয়ভাবে ঢের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটাই হওয়ার ছিল। ইসলাম কখনো প্রবাহিত হয়না, প্রসারিত হয়।’

Please put your valuable comment here (Leave a Reply)

%d bloggers like this: