উল্টো নির্ণয় বই রিভিউ

পূর্বের ভিত্তিহীন ধারণানুযায়ী, “চাইল্ডহুড মেরোরিস” এর ইতিহাস অনুসারে, পবিত্র কুরআনের “আয়াত” শব্দের অর্থ আমি মনে করতাম “বাক্য”। আদতে যেটাকে বাক্য বলে “বিবৃতিমূলক” কিছু একটা বানিয়ে-সাজিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমাদের নিষ্পাপ মন-মগজে। অথচ ” আয়াত” এর সঠিক অর্থ হচ্ছে “সিগনেচার” বা “চিহ্ন”! ” চিহ্ন” শব্দটি শুনলেই তো স্বতন্ত্র অনুভূতি বয়ে যায় অন্তরে! একান্ত ভাবনা জেগে উঠতে চায় লোকসমাগমের অন্তরালে…

নির্মেঘ হৃদয়ে, শানিত মস্তিষ্কে সেক্যুলার সমাজ আমাদের যা শিখিয়েছিল শিশু বয়সে, বিলম্বে হলেও ইসলামের চাদরে নিজেকে আবৃত করে নেওয়ার পরমুহূর্তে বুনিয়াদি বিষয়বস্তু নিয়ে যখন ইলম অর্জন শুরু করেছিলাম, তখন থেকেই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ তথ্য আমি পেয়েছিলাম যা বারংবার অকপটে আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে,” যা বাল্যকাল থেকেই শিখে আসছি, যেসব বিষয়কে আগলে রেখে ও আঁকড়ে ধরে বড় হচ্ছি, সেসবের সিংহভাগই ছিল ভুল এবং ভ্রান্ত বিশ্বাস!”

খুব সহজভাবে চিন্তা করুন।
পৃথিবী’টা হচ্ছে পরীক্ষার কেন্দ্র। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আপনাকে প্রশ্ন ফাঁস করে দিয়েছেন! পরীক্ষায় কি কি আসবে, সব-ই জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই ই নয়। তিনি আপনাকে ফাঁস করে দেওয়া প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরও ফাঁস করে দিয়েছেন! সত্যিই! তিনি আপনাকে উত্তর পর্যন্ত জানিয়ে দিয়েছেন! তাসত্ত্বেও আমরা বিপথে পা বাড়িয়েছি। আল্লাহকে (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি আমাদের জীবন থেকে। যাপন করেই যাচ্ছি জিন্দেগী, কার নিয়ামাত ভোগ করে?

আসলেই তো!
এ পৃথিবীতে আপনার কিচ্ছু নেই, আপনি কেউ নন, আপনার এখানে কোনো প্রাপ্য অধিকার নেই। আপনি তো স্রেফ রক্তে আর মাংসে আচ্ছাদিত অস্থিসমূহের অস্থির আর অস্থিতিশীল একটি প্রাণি মাত্র!
তবুও চোখে-মুখে বিস্ময় এনে দেওয়ার মতো একটা ব্যাপার কী জানেন?
এ ধরণীর লক্ষ-কোটি প্রাণির মাঝে, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) কেবল আপনাকেই অন্য জীবদের তুলনায় সম্মানিত করেছেন! আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আপনাকেই মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। ইনিই তো আমাদের মালিক, যার অসীম দয়ায় সৃষ্ট ভূমিতে আমরা পদচারণ করছি। তথাপি তাঁর সম্পদ ভোগ করে তাঁকেই গালি দিচ্ছি আর তাঁকেই ভুলে বসে আছি নির্বিঘ্নে (!)…

জীবন্ত সত্য কথা,”তিনি তো এখনও তোমার পরীক্ষার খাতা নিয়ে নেন নি।”
আমাদের রব হয়তো “সময়” দিয়েছেন কয়েকটি দিন, কিন্তু “সুযোগ” দিয়েছেন অগণিত। আপনি সিরাত্বাল মুস্তাক্বীমের পথে ফিরে আসেন বা না আসেন, তাতে আল্লাহর কোনো ক্ষতি নেই, নেই কোনো লাভও। কারণ, তিনি এসবের ঊর্ধ্বে এবং তিনি এসব থেকে পুরোপুরি পবিত্র।
তিনি কেবল এটাই চান যে, তাঁর বান্দা যেনো তাঁকে চিনতে পারে, তাঁকে বুঝতে পারে, তাঁর মহিমা অবলোকন করতে পারে এবং তাঁর শক্তির মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। বুঝতে কি এতটাই কঠিন যে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে? এতটাই কি পশ্চাদে হেঁটে চলি আমরা তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার নিমিত্তে?

আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি,”তিনি তো এখনও তোমার পরীক্ষার খাতা নিয়ে নেন নি।”

তাই ফিরে আসুন,
সেই পথে, যেই পথে মানুষ দেখা পায় জ্যোতির। যেই পথটির শুরুর দিকে এবং চারিদিকে দুঃখ,ক্লান্তি,ভয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও সেই পথের গন্তব্যে আছে আসল সাফল্য, আসল অর্জন। নিজের নফসকে পরিচালিত করুন সেই পথের সন্ধানে, যেই পথটিকে নিয়ে কাব্যিক ভাষায় বলা হয়ে থাকে:-

“চালাও সে পথে, যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি”…

Mohammed Touaha Akbar ভাইয়ের ” উল্টো নির্ণয়” বইটি অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর জানতে পেরেছিলাম, আমার প্রিয় সমর্পণ প্রকাশন থেকে “উল্টো নির্ণয়” বইটির দাওয়াহ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। হাতে টাকা আসার পরপরই সংগ্রহ করে নিলাম। খুব সুন্দর এবং সহজ ভাষায় তোয়াহা ভাই জীবনের বাস্তবিক কিছু ঘটনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায় প্রাণবন্তভাবে পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ-র আলোকে রচনা করেছেন, যেটা আমার খুব খুব খুব পছন্দ হয়েছে। এছাড়া বইতে লিপিবদ্ধ “ইজাজুল কুরআন” এবং “ঘোষণা কর শ্রেষ্ঠত্বের” প্রবন্ধ দুটি পড়ে পবিত্র কুরআনের প্রতি অন্যরকম শ্রদ্ধা শিখেছি। মহান আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) তোয়াহা ভাইয়ের এই পবিত্র কাজটিকে কবুল করে নিক। বইটি প্রকাশের পেছনে যারা কাজ করেছেন, মহান আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিক। আমীন।
“ভুলে যাবেন না। আপনার আর আমার কিন্তু টাকা দিয়ে বিলাসিতা কিনতে ছুটে চলা একটা মেশিন হবার কথা ছিল না কোনোদিন। আমার, আর আপনার বুকে এক মহাকাশ ভালোবাসা থইথই করার কথা ছিল। কথা ছিল সেই ভালোবাসার মহাকাশ থেকে স্বপ্নের মেঘ ঝরিয়ে ঝুম বর্ষা নামানোর। সব চরাচর ভিজিয়ে দেওয়ার।”

 

রিভিউয়ার: আশরাফ নাদিম চৌধুরী

Please put your valuable comment here (Leave a Reply)

%d bloggers like this: